ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ইশতেহারে নারী অধিকার, কর্মসংস্থান, প্রশাসনিক সংস্কার ও মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
৩০ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহারটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দলটির মুখপাত্র এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ শিরোনামে প্রকাশিত এই ঘোষণাপত্রে ১২টি অধ্যায়ে রাষ্ট্র সংস্কার ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। ইশতেহারের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়নসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি।
ইশতেহার অনুযায়ী, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ বেতনে ছয় মাস মাতৃত্বকালীন এবং এক মাস পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার করেছে এনসিপি। প্রসবকালীন জটিলতার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ছুটির ব্যবস্থাও রাখার কথা বলা হয়েছে।
নারী কর্মীদের জন্য সরকারি কর্মক্ষেত্রে মাসে এক দিন অর্ধবেতনে ঐচ্ছিক পিরিয়ড লিভ চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। দলটি জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে এটি সব কর্মক্ষেত্রে সম্প্রসারণ করা হবে এবং প্রয়োজনে সরকার শ্রমিকদের অর্ধবেতনে ভর্তুকি দিতে পারে।
সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সুবিধা বাধ্যতামূলক এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ সুবিধা দিতে প্রণোদনার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে জুলাই সনদের যেসব ধারা আইন ও নির্বাহী আদেশের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলোর বাস্তবায়নে সময়সীমা ও দায়বদ্ধতা নির্ধারণের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
জুলাইয়ে সংঘটিত গণহত্যা, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের কথাও ইশতেহারে রয়েছে।
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১০০ টাকা নির্ধারণ, বাধ্যতামূলক কর্মসুরক্ষা বীমা ও পেনশন ব্যবস্থা এবং আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য ঘোষণা করেছে এনসিপি।
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে দলটি জানিয়েছে, ভোট দেওয়ার ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর করার প্রস্তাব তারা বিবেচনায় নিচ্ছে এবং তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ‘ইয়ুথ সিভিক কাউন্সিল’ গঠন করা হবে।
স্বাস্থ্যখাতে এনআইডি-ভিত্তিক ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড, জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে জিপিএস-ট্র্যাকড জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতিতে সীমান্ত হত্যা, আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা এবং রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এনসিপির নেতারা জানান, এই ৩৬ দফা ইশতেহারকে তারা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত রূপরেখা হিসেবে দেখছেন এবং ভোটারদের কাছে এটি একটি সংস্কারমূলক বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করতে চান।
