দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি শক্তিশালী করতে পুলিশ থানা ও ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র এবং বিশেষায়িত ইউনিটের স্থাপনা নির্মাণে ৭০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই উন্নয়ন প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের ৮টি বিভাগের ৪৮টি জেলায় ধাপে ধাপে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এর আওতায় সাধারণ পুলিশ ফাঁড়ির পাশাপাশি নৌ-পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশের জন্য আধুনিক থানা ও আউটপোস্ট নির্মাণ করা হবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
একনেক সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, পুলিশের ইউনিট সংখ্যা বাড়লেও তাদের পর্যাপ্ত দাপ্তরিক ও আবাসিক সুবিধা নেই। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ভাড়াবাড়ি বা জরাজীর্ণ ভবনে পরিচালিত হওয়ায় জনসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এই প্রকল্পের ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং মহাসড়কে অপরাধ দমনের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
প্রকল্পটির অধীনে কেবল ভবন নির্মাণই নয়, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম কেনাসহ পরিবেশবান্ধব ল্যান্ডস্কেপিং কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, নৌপথে দস্যুতা রোধ এবং পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর জন্য আধুনিক সেন্টার নির্মাণ করা হবে।
বিগত বছরগুলোতে পুলিশের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে যে সংকট ছিল, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে দেশের জননিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
