ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, বিএনপির রাজনৈতিক লক্ষ্য সব ধর্ম ও সব বিশ্বাসের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। সাক্ষাৎকারটি একই দিনে সম্প্রচারিত হয়।
ধর্মনিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক ও জনসংখ্যাগত বাস্তবতায় এই শব্দটি রাজনীতির জন্য উপযোগী নয়। দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ মুসলমান। তবে অন্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই বিএনপির মূল রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় বিএনপির অতীত ভূমিকা সবচেয়ে শক্তিশালী বলে দাবি করেন দলটির মহাসচিব। তাঁর ভাষায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও সেগুলোকে সাম্প্রদায়িক নয়, রাজনৈতিক হিসেবেই দেখা উচিত।
ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে বলে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আক্রান্ত হলে সেটি রাজনৈতিক সহিংসতা, ধর্মীয় নয়।
২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মূল্যায়নের কথা তুললে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন দেখেননি যা ওই সময়কে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্য দায়ী করে।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা এবং প্রতিশোধমূলক হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, এসব মূল্যায়ন পক্ষপাতদুষ্ট।
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারেক রহমান ইতোমধ্যে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক পরিকল্পনা জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন এবং পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছেন।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা একাধিক দুর্নীতির মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব মামলা আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছিল। কোনো অভিযোগই আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ সময় নির্যাতনের শিকার হওয়া মানুষ তাদের সম্পদ ও ব্যবসা ফিরে পাওয়ার পর কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, পরিবর্তনের সময় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটতে পারে।
আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন অগণতান্ত্রিক হবে কি না, সে প্রশ্নে তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সহিংসতায় জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিচার হওয়া জনদাবির বিষয়। তবে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে তিনি নন বলেও জানান।
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই রায় কার্যকরের চেষ্টা করা হবে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ের শোকবার্তা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ইতিবাচক ইঙ্গিত।
