রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। ক্ষমতায় গেলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সংস্কার ও সামাজিক ন্যায়বিচারই হবে বিএনপির অগ্রাধিকার।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটি তার নেতৃত্বে ঘোষিত দলের প্রথম জাতীয় নির্বাচনী ইশতেহার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, জ্যেষ্ঠ নেতা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহার পাঁচটি ভাগে বিভক্ত। এতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ৫১ দফাভিত্তিক পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। বিএনপি জানিয়েছে, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০, তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা এবং জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বয়ে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।
ইশতেহারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ড চালু, যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য নিরসনে পেশাভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে।
অর্থনীতিতে বিনিয়োগমুখী কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য ঘোষণা করে বিএনপি ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি নির্মাণের অঙ্গীকার করেছে। ব্যাংক খাত সংস্কার, পুঁজিবাজারে অনিয়ম তদন্ত, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠনের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
নির্বাচন ব্যবস্থা ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি বলেছে, ভোটকে রাষ্ট্রক্ষমতার একমাত্র বৈধ উৎস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, উন্মুক্ত দরপত্র, রিয়েল টাইম অডিট এবং সরকারি ব্যয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। অর্থপাচার রোধ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সামাজিক ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে নিহতদের বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে বিএনপি। পাশাপাশি ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন গঠনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বিএনপি বলেছে, সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির কথাও ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে।
