ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের মাত্র তিন দিনের মাথায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা আগামী ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা তিন দিনের মধ্যে শপথ নিলে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হবে। প্রক্রিয়াটি কোনোভাবেই ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির বেশি দেরি হবে না বলে সরকার আশা করছে।
এদিকে, নতুন এমপিদের শপথ পাঠ কে করাবেন, তা নিয়ে সৃষ্ট আইনি জটিলতা নিরসনে বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সাধারণত বিদায়ী স্পিকার শপথ পাঠ করান। তবে বর্তমান স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি এই দায়িত্ব পালন করবেন।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের উত্থাপিত সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত হলেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, অভ্যুত্থানের সরকার হলেও সংবিধানকে সমুন্নত রাখতেই এই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার পর এবারই প্রথম নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে দেশ। দ্রুত এই পালাবদল নিশ্চিত করতে সংসদ সচিবালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।
