আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে কঠোরভাবে আচরণবিধি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালাতে চাইলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ও আইডি আগেভাগেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই কমিশন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ও গণভোটকে সামনে রেখে সব রিটার্নিং অফিসারকে এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর ১৬ নম্বর বিধি অনুযায়ী, প্রার্থী বা তার এজেন্টকে প্রচারণার আগেই ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টের নাম, আইডি এবং ই-মেইলসহ শনাক্তকরণ তথ্যাদি দাখিল করতে হবে। ব্যক্তি, দল বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কেউ প্রচারণা চালালেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণার পেছনে ব্যয়ের লাগাম টানতেও বিশেষ নিয়ম জারি করেছে কমিশন। বিধিমালার ২২ নম্বর বিধি অনুসারে, ফেসবুক বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন প্রদান, বুস্টিং বা স্পন্সরশিপের পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থ প্রার্থীর মোট নির্বাচনি ব্যয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ইসি সচিবালয় আরও জানিয়েছে, কোনো প্রার্থী কোন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছেন, সেই তথ্য দ্রুত জনসংযোগ শাখায় পাঠাতে রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণার প্রতিটি ধাপে আর্থিক ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও গুজব রোধে এই নজরদারি কঠোরভাবে পালন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
