জাপান বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া আবার চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কেন্দ্রটির একটি চুল্লি পুনরায় চালু করা দেশটির জ্বালানি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি নিগাতা প্রদেশে অবস্থিত এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি চুল্লি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রটি পরিচালনা করে টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো)।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত মাসে চুল্লিটি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। কারণ হিসেবে একটি অ্যালার্ম সিস্টেমের সেটিংসজনিত ত্রুটির কথা জানানো হয়।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রধান তাকেয়ুকি ইনাগাকি বলেন, ওই ত্রুটিটি ছিল পুরোপুরি প্রযুক্তিগত এবং এতে কেন্দ্রটির নিরাপত্তা বা স্বাভাবিক পরিচালনায় কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর পুনরায় চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।
কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। এতে মোট সাতটি চুল্লি রয়েছে। ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক কেন্দ্রের দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে জাপান প্রায় সব পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়। সে সময় টেপকোর পরিচালনাধীন এই কেন্দ্রটিও বন্ধ রাখা হয়।
ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর জাপানে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত তৈরি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জ্বালানি নিরাপত্তা ও উচ্চ ব্যয়ের কারণে সরকার ধীরে ধীরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফেরার পথ বেছে নিচ্ছে। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতাও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ ফেব্রুয়ারি চুল্লিটি চালু করার পর ধাপে ধাপে নিরাপত্তা পরীক্ষা ও কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে মার্চের মাঝামাঝি থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে।
তবে পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় নাগরিকদের একাংশ এখনো এই কেন্দ্র পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, ফুকুশিমার অভিজ্ঞতার পর জাপানে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।
