আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ৪১ দফার জামায়াতের ‘জনতার ইশতেহার’ উপস্থাপন করেন।
ইশতেহারে প্রধান গুরুত্ব পেয়েছে সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। একইসঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সমাজ গঠন, সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিতের মাধ্যমে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সব পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে নারীদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকল্পনা। ডা. শফিকুর রহমান জানান, নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে তাদের পারিবারিক ও পেশাগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করতে চায় জামায়াত। এক্ষেত্রে বেতন বৈষম্য রোধে সরকার ও মালিকপক্ষের সমন্বিত দায়বদ্ধতার প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘আমার আয়ের সংসার’ নামে নতুন প্রকল্প নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয় ইশতেহারে।
জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একটি পরিচ্ছন্ন ও নৈতিক বাংলাদেশ গড়াই তাদের মূল লক্ষ্য। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রদান এবং রাজধানীর সঙ্গে বিভাগীয় শহরের দূরত্ব সড়ক বা রেলপথে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার উচ্চাভিলাষী যাতায়াত পরিকল্পনাও এতে স্থান পেয়েছে।
ইশতেহারে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বিভেদ ভুলে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধে চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে। জামায়াত এই ইশতেহারকে কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি সুখী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত রূপরেখা হিসেবে অভিহিত করেছে।
